নেত্রকোণা সদর উপজেলায় ঋণের বোঝা সইতে না পেরে নিজের গোয়ালের গরু চুরির নাটক সাজাতে গিয়ে স্বামী হেলাল উদ্দিন তালুকদারকে (৬০) নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী বেদেনা আক্তারের (৪২) বিরুদ্ধে।
চুরির সময় চোরদের চিনে ফেলায় ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে মিলে নিজ বসতঘরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক স্ত্রী বেদেনা আক্তার বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে তিনি গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চাইলেও স্বামী হেলাল উদ্দিন তাতে বাধা দেন।
এরপর ঋণ মেটানোর টাকা জোগাড় করতে বেদেনা আক্তার এক অভিনব ও ভয়ানক পথ বেছে নেন। তিনি তার বাবার বাড়ির আত্মীয় মো. লিটন মিয়ার সহায়তায় নিজ গোয়ালের গরু চুরির পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) গভীর রাতে লিটন মিয়া তার তিন সহযোগীসহ ওই বাড়িতে গরু চুরি করতে আসেন।
চুরির একপর্যায়ে হেলাল উদ্দিন তালুকদার টের পেয়ে যান এবং চোরদের চিনে ফেলেন। এতে ধরা পড়ার ভয়ে এবং ভবিষ্যতে ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় স্ত্রী বেদেনা আক্তার নিজেই চোরদের সঙ্গে যোগ দেন। তারা সবাই মিলে হেলাল উদ্দিনের পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে বেদেনা আক্তার বাড়িতেই থেকে যান এবং বাকিরা পালিয়ে যায়।
গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ নিহতের শয়নকক্ষ থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর থেকেই পুলিশের সন্দেহভাজন তালিকায় ছিলেন স্ত্রী বেদেনা। নেত্রকোণা মডেল থানার পুলিশ নিহতের স্ত্রীর দেওয়া তথ্য ও কললিস্ট বিশ্লেষণ করে দ্রুত ঘটনার কূলকিনারা করে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মো. লিটন মিয়া (৫০) ও মো. রিয়েল মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে স্ত্রী বেদেনা আক্তার সোমবার আদালতে স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নেত্রকোণা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম জানান, গ্রেফতারকৃত লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৫-৬টি চুরির মামলা রয়েছে। অন্য সহযোগী রিয়েল মিয়াও একটি হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন, যিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন। মামলার বাকি দুই আসামিকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারে শোকের ছায়া
নিহত হেলাল উদ্দিন তালুকদার সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন এবং জেলা যুবদলের সাবেক নেতা শাহাবউদ্দিন রিপনের চাচাতো ভাই। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।




