শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া এক পিটিশন মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আসামি করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে তার পরিবার। মামলাটিকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে ভালুকা স্কুল মাঠে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত কিশোর রাকিব হোসেনের বাবা মো. ছাহের আলী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, রাকিবের বয়স অনুযায়ী তার জন্মতারিখ সঠিকভাবে বিবেচনায় নিলে কিশোরের বয়স এখন মাত্র ১৪ বছর ১১ মাস। এত ছোট একটি শিশুকে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করা মানহানিকর ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, বাদীপক্ষ যে ঘটনার বিবরণ দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন, তা ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও বাস্তবতাবর্জিত’। অভিযোগ করা সময়, স্থান ও বর্ণিত পরিস্থিতি সত্যের সঙ্গে মেলে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ছাহের আলীর অভিযোগ, ছেলের কাছে মেয়েকে বিবাহ না দেওয়ার জের ধরেই তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মামলার পর থেকে কিশোরটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সামাজিকভাবে পরিবারটি নানা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। তারা বলেন, চলমান গুজব ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তায় তাদের স্বাভাবিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছাহের আলী বলেন, *“আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নিরপেক্ষ তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তদন্তে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব।”* তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান, তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও বলা হয় যে, রাকিবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, এবং তারা সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসীর শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহর স্ত্রী মোছা. নুরেছা বেগম বাদী হয়ে একই এলাকার মো. ছাহের আলীর ছেলে রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে তাদের মেয়ে মোছা. হাবিবা আক্তার রুবিনাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা (নং–২৭৬/২৫) দায়ের করেন।

