শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৭টি অবৈধ ইটভাটায় সর্বমোট ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করাসহ ভাটাগুলোর কার্যক্রম ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছাড়পত্রবিহীন এবং কৃষিজমি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বেশ কিছু ইটভাটা পরিচালিত হয়ে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকাল থেকে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শেরপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুভাগত সরকার বর্ণ। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর শেরপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সুশীল কুমার দাস।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে উপজেলার ৭টি ইটভাটাকে বিভিন্ন অংকের আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স জননী জিগজ্যাগ ব্রিকসকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স সুমন জিগজ্যাগ ব্রিকসকে ৩ লক্ষ টাকা, মেসার্স সরকার ব্রিকসকে ৩ লক্ষ টাকা, মেসার্স সেভেন স্টার ব্রিকসকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স চমক ব্রিকসকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স রিজন ব্রিকসকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এফ আর জিগজ্যাগ ব্রিকসকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন কেবল আর্থিক জরিমানা নয়, বরং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি ইটভাটায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট পানি দিয়ে এবং যান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইটভাটাগুলোর সকল বিদ্যুৎ সংযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে এসব ইটভাটায় কোনো প্রকার কার্যক্রম না চালানোর জন্য মালিকপক্ষকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান পরিচালনার সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অভিযান সফল করতে শেরপুর জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর প্রতিনিধি এবং নকলা থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দীর্ঘ সাড়ে ৬ ঘণ্টার এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর শেরপুর জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ বিধিনিষেধ অমান্য করে এবং লাইসেন্স ছাড়া যেসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। জেলার পরিবেশ রক্ষায় এবং অবৈধ বায়ু দূষণ রোধে পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়ায় এলাকার ফসলি জমি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছিল। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।



