শেরপুরের নকলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘কায়দা বাজারদী গোরস্থান, মাদ্রাসা ও আহমদিয়া এতিমখানা, মসজিদ এবং ঈদগাহ মাঠ’ পরিচালনা কমিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার আহমদিয়া এতিমখানা মিলনায়তনে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই সভা সম্পন্ন হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং মমিনাকান্দা আল-আমিন দাখিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপার মুহাম্মদ হযরত আলী।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সভার শুরুতেই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক চিত্র, বিগত দিনের কার্যক্রম, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ গোলাম মাছুম।

বক্তব্য প্রদানকালে সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কায়দা বাজারদী গোরস্থান, মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স কেবল কয়েকটি স্থাপনা নয়, বরং এটি নকলাবাসীর ধর্মীয় আবেগ ও আস্থার প্রতীক। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “এতিম ছাত্রদের জীবনমান উন্নয়ন, মসজিদের সংস্কার এবং গোরস্থানের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা কেবল কমিটির একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ। আমরা চাই প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে।”
পদাধিকার বলে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম-কে অত্র প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত সদস্যরা।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের পর শুরু হয় উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব। এতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ দিন পর এমন একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। তারা এতিমখানার ছাত্রদের খাবারের মান উন্নয়ন, মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়ন এবং গোরস্থানের সীমানা প্রাচীরসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তিত্ব তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা চাই এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়ে, সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পরিচালিত হোক। আজকের এই সাধারণ সভা প্রমাণ করে যে বর্তমান কমিটি জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।” বক্তারা নতুন সভাপতির নেতৃত্বে এবং বর্তমান কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই সভায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে এতিমখানা ও মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

