সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চোরাকারবারিরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে। এবার খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সাবান জব্দ করেছে বিজিবি।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী সিংগাবরুনা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে এই চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। রোববার দুপুরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর পক্ষ থেকে বিজিবির কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে যে, সিংগাবরুনা ইউনিয়নের বড়ইকুচি পশ্চিমপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য মজুদ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কর্ণজোড়া বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি)-এর একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন কর্ণজোড়া বিওপি’র ক্যাম্প ইনচার্জ ও অন্যান্য বিজিবি সদস্যরা। তারা বড়ইকুচি পশ্চিমপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেকের ছেলে মো. রাব্বানীর বাড়িতে হানা দেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক ও অভিযুক্ত চোরাকারবারী রাব্বানীসহ তার সহযোগীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে বিজিবি সদস্যরা ওই বাড়ির আঙ্গিনা ও আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশিকালে বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা খড়ের গাদার দিকে নজর পড়ে বিজিবি সদস্যদের। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ খড়ের গাদা মনে হলেও, খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে চোরাচালানের অভিনব কৌশল। খড়ের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ১৮টি বড় প্লাস্টিকের বস্তা।
উদ্ধারকৃত বস্তাগুলো খোলার পর দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরে ৮৯টি কার্টনে সাজানো রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সাবান। গণনা শেষে মোট ৬ হাজার ৪০৮ পিস সাবান জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়। বিজিবির প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, জব্দকৃত এই সাবানের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে কড়াকড়ি থাকায় চোরাকারবারিরা এখন পণ্য পরিবহনে এবং মজুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের গ্রামীণ কৌশল ব্যবহার করছে। রাব্বানী নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য এনে নিজ বাড়িতে মজুদ করত এবং পরে সুযোগ বুঝে স্থানীয় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণজোড়া বিওপি’র ক্যাম্প ইনচার্জ সুবেদার মো. ফুলু মিয়া বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এনএসআই-এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে ওই বাড়িতে ভারতীয় পণ্য মজুদ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক অভিযানে খড়ের গাদা থেকে আমরা মালামালগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হই।”
তিনি আরও জানান, চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল বর্তমানে বিজিবি হেফাজতে রয়েছে এবং এ ব্যাপারে প্রচলিত চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার সচেতন মহল বিজিবির এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্তে অবৈধ পণ্যের কারবার এবং মাদক চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে। একইসাথে স্থানীয় যুবসমাজকে চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানান তারা।



