সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়ন ঘটাতে শেরপুর ও ময়মনসিংহ সীমান্তে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত দুই দিনের টানা ও রাতভর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, দামী প্রসাধনী (কসমেটিকস), মাছ ও ফল জব্দ করা হয়েছে। ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযান স্থানীয় অপরাধ চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদকের বড় চালান আটকাতে অভিনব কৌশল
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা ইদানীং পাচারের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন রুট ও কৌশল ব্যবহার করছে। তবে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার শালবাগান ও বুরুঙ্গাবাজার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একটি চক্র বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ দেশে ঢোকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩ ও ৪ ডিসেম্বর বিজিবির টহল দল সেখানে ওৎ পেতে থাকে। পাচারকারীরা মাহিন্দ্রা পিকআপে করে মালামাল সরানোর সময় বিজিবি ধাওয়া করে। এ সময় চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলে বিজিবি দুটি মাহিন্দ্রা পিকআপ জব্দ করে। তল্লাশি চালিয়ে পিকআপ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৪০ বোতল ভারতীয় মদ। জব্দকৃত মদ ও যানবাহনের আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
দামী কসমেটিকস ও নিত্যপণ্য জব্দ
শুধুমাত্র মাদক নয়, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। অভিযানের ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার শালকোনা এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মারিংপাড়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালানো হয়।
এ সময় পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও বস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে পন্ডস ফেসওয়াশ, নেভিয়া সফট ক্রিম, অলিভ অয়েল ও ডাভ সাবান। বিজিবির হিসেব অনুযায়ী, জব্দকৃত এসব কসমেটিকসের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০ টাকা। এসব পণ্য অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাতো, তেমনি দেশীয় পণ্যের বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
মাছ ও কমলার চালানে হানা
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা পচনশীল দ্রব্যের চোরাচালান রুখতেও তৎপর ছিল বিজিবি। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বান্দরকাটা ও ধোবাউড়ার চন্দ্রকোণা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কমলা আনা এবং বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মাছ পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। এই অভিযানে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আগামীর পরিকল্পনা
টানা ৪৮ ঘণ্টার এই তিনটি পৃথক অভিযানে সর্বমোট ৭৭ লাখ ৬১ হাজার ৬৩০ টাকার মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে ৩৯ বিজিবি।
অভিযানের বিষয়ে লে. কর্নেল মেহেদী হাসান বলেন, “শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছি না। অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”

